ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ইতিবাচক লেখা আহবান ::
প্রিয় কবি, লেখক, পাঠক, সাংবাদিক, দায়িত্বশীল সচেতন নাগরিক আপনাকে স্বাগতম। যে কোন ধরনের ইতিবাচক তথ্য ও লেখা দিয়ে দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যাণে আপনি ভূমিকা রাখতে পারেন। আমরা আছি আপনার পাশে jaishoomoy@gmail.com
সংবাদদাতা নিয়োগ ::
আপনি বলতে পারেন, আপনার মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করতে পারেন, আপনি লিখতে পারেন। এবং আপনি সঠিক ভাবে ভালো-মন্দ  বুঝতে পারেন, আপনিও পারেন সংবাদ মাধ্যমের সহযোগি শক্তি হতে। আপনার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে দ্রুত নাম এন্ট্রি করুন।

আফছানা খানম অথৈ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫ ২৪২ বার পড়া হয়েছে

গাজার বর্তমান অবস্থা

আফছানা খানম অথৈ

গাজার বর্তমান অবস্থা খুবই ভয়াবহ। ইসরাইলি সৈন্য বাহিনী নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে। প্রতিদিন মরছে হাজার হাজার গাজাবাসি । হঠাৎ হঠাৎ বোমা নিক্ষেপ করছে, ধ্বসে পড়ছে বহুতলা উঁচু ভবন। ছাপা পড়ে মরছে পুরো পরিবার। বৃদ্ধ, যুবক,শিশু, নারী কেউ রক্ষা পাচ্ছে না। প্রতিটি শিশুর মায়াভরা নুরানি চেহারা আর লাশের কাতার দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। অনায়াসে ঝরে পড়ে। অনুরুপ বয়স্কদের ও সেইম অবস্থা।এক কাতারে শুয়ে আছে হাজার হাজার লাশ। গনকবর দেয়া হচ্ছে সবাইকে। পুরো গাজা কবরে পরিণত হয়ে গেছে। এখন কবর দেয়ার জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই। যারা বেঁচে আছেন, মাথা গুজবার ঠাঁই নেই। পথেঘাটে, বনে, জঙ্গলে, শিশু বাচ্চাদের নিয়ে মা বোনেরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সে কী কষ্ট উত্তপ্ত রোদ ,শরীর থেকে তরতর করে ঘাম ঝরছে। পেটে ক্ষুধা,শিশু বাচ্চারা ক্ষুধার জ্বালায় ছটপট করছে। শুন্য মরুভুমি,কোথাও একফোঁটা পানি পাওয়া যাচ্ছে না। শিশু বাচ্চাগুলো দুহাত তুলে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইছে। বিশ্ববাসির কাছেও সাহায্য চাইছে। খাদ্য বস্ত্র, বাসস্থান উভয় সংকটে আছে গাজাবাসি। এক নিউজে দেখলাম একটু খাবারের জন্য হাজার হাজার গাজাবাসি ভিড জমিয়েছে। সবার হাতে একটা একটা বাটি। রান্না করে হয়েছে খিচুডির মতো ডালভাত একসাথে। আর তা বিলি করছেন উপস্থিত গাজাবাসির কাছে। কিন্তু সবার ভাগ্যে খাবার জুটলো না। কারণ মানুষ বেশি, খাবার কম। শিশু বাচ্চাদের খাবারের জন্য সে কী করুণ আর্তনাদ। সহ্য করার মতো দৃশ্য নয়। আমরা কতো ভালো ভালো খাবার খাচ্ছি। অথচ তারা উপোষ, একটু খাবারের জন্য সে কী আর্তনাদ। আর এক দৃশ্যে দেখলাম ইফতারি করছে ঘাস দিয়ে,সবার সামনে পেয়ালায় ঘাস,আযানের অপেক্ষায় বসে আছে বালুময় প্রান্তরে। আযান দিলে এই ঘাস দিয়ে ইফতার করবে। বোমা মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে হাসপাতাল। মারা গেছে চিকিৎসক সহ হাজার হাজার রোগী। হাসপাতালে নেই চিকিৎসক, নেই নার্স, নেই ঔষধ। বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। গর্ভবতী মা গর্তে আটকা পড়ে প্রসব ব্যথায় কাতরাচ্ছে। পরিবারের সবাই মারা গেছে।একমাত্র শিশু বাচ্চা পাশে বসে কাঁদছে। দেখার মতো কেউ নেই। সে কী করুণ দৃশ্য। অনেক পরিবারের মা বাবা ভাই বোন সবাই মরে গেছে। বেঁচে আছে একমাত্র শিশু বাচ্চা।রক্তাত্ব অবস্থায় কাঁদছে মা বাবার জন্য। সে কী করুণ দৃশ্য।মা তার পাঁচ সন্তানকে হারিয়ে কাঁদছেন। চিকিৎসক মা ছুটে গেছেন চিকিৎসা করতে, দেখেন নিজের মেয়ের লাশ। দেখে সহ্য করতে পারলেন না, মুর্ছিত হয়ে পড়লেন। এক দৃশ্য দেখলাম আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারছে সংবাদিককে। এ কোন বর্বরতা,এ কোন নিঃসংশয়তা…। কোথায় গেল মানবধিকার সংস্থাগুলো।জাতিসংঘ চুপসে আছে কেন?এখন কী মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে না? পুরো রমজান মাস শেষে সারা বিশ্বের মুসলিম ঈদ আনন্দ করছে। কিন্তু গাজাবাসির জীবন কেটেছে রক্তস্নাত স্রোতের মধ্য দিয়ে। পুরো গাজা রক্তের বন্যা,লাশ আর লাশ…। লাশগুলো রক্তাক্ত,কারো মাথা থেথলে গেছে, কারো পা ভেঙ্গে গেছে,কারো হাত ভেঙে গেছে,কারো কোমর ভেঙে গেছে,কারো পুরো শরীর থেথলে গেছে। ঈদের নামাজ পড়েছে তারা বালুময় মরু প্রান্তরে। গাজার বর্তমান অবস্থা খুবই ভয়াবহ। খাদ্য, পানি, বস্ত্র,চিকিৎসা,ঔষধ বাসস্থান উভয় সংকট।না খেয়ে আছে হাজার হাজার গাজাবাসি। অর্ধাহারে অনাহারে মারা যাচ্ছে প্রতিদিন হাজার হাজার শিশু। এভাবে চলতে থাকলে গাজাবাসি একদিন চিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। দখল করবে ইসরাইলিরা খাজা ভুখন্ড। এই মুহূর্তে দরকার সারাবিশ্বের মুসলিমদের গাজাপাশির পাশে দাঁড়ানো।কারণ আলআকসা মসজিদ রক্ষা করা গোটা মুসলিমের ঈমানি দায়িত্ব। শুধু গাজাবাসির নয়। যে যেভাবে পারেন তাদেরকে সাহায্য করেন, টাকা, অন্ন, বস্ত্র, খাদ্য, পানি, ঔষধ, পথ্য, সৈন্য দিয়ে।তা না হলে আল্লাহর কাছে এর জবাব দিতে হবে।কেন মুসলিম হয়ে মুসলিমের পাশে দাঁড়ালেন না? আল আকসা মসজিদ রক্ষা করতে গেলেন না?এই দায়িত্ব আপনার আমার সবার।

তবুও চুপসে আছেন কেন? কোনো মুসলিম রক্ষা পাবে না। গাজাবাসির অভিশাপে সবাই ধ্বংস হয়ে যাবেন। শুধু তাই নয় ইহুদীরা এক এক করে পুরো মুসলিম জাতিকে ধ্বংস করবে। এটাই তাদের প্ল্যান। প্রথমে আল আকসা মসজিদ। পরে বাকীটা। তাই বলছি প্রত্যেক মুসলিমের উচিৎ, সময় থাকতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, আন্দোলনের ডাক দেয়া, যুদ্ধ ঘোষণা করা। তবে আল্লাহপাক জয়ী করবেন। এর ব্যতিরেকে নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আপডেট সময় : ০৮:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫

গাজার বর্তমান অবস্থা

আফছানা খানম অথৈ

গাজার বর্তমান অবস্থা খুবই ভয়াবহ। ইসরাইলি সৈন্য বাহিনী নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে। প্রতিদিন মরছে হাজার হাজার গাজাবাসি । হঠাৎ হঠাৎ বোমা নিক্ষেপ করছে, ধ্বসে পড়ছে বহুতলা উঁচু ভবন। ছাপা পড়ে মরছে পুরো পরিবার। বৃদ্ধ, যুবক,শিশু, নারী কেউ রক্ষা পাচ্ছে না। প্রতিটি শিশুর মায়াভরা নুরানি চেহারা আর লাশের কাতার দেখে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। অনায়াসে ঝরে পড়ে। অনুরুপ বয়স্কদের ও সেইম অবস্থা।এক কাতারে শুয়ে আছে হাজার হাজার লাশ। গনকবর দেয়া হচ্ছে সবাইকে। পুরো গাজা কবরে পরিণত হয়ে গেছে। এখন কবর দেয়ার জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই। যারা বেঁচে আছেন, মাথা গুজবার ঠাঁই নেই। পথেঘাটে, বনে, জঙ্গলে, শিশু বাচ্চাদের নিয়ে মা বোনেরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সে কী কষ্ট উত্তপ্ত রোদ ,শরীর থেকে তরতর করে ঘাম ঝরছে। পেটে ক্ষুধা,শিশু বাচ্চারা ক্ষুধার জ্বালায় ছটপট করছে। শুন্য মরুভুমি,কোথাও একফোঁটা পানি পাওয়া যাচ্ছে না। শিশু বাচ্চাগুলো দুহাত তুলে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইছে। বিশ্ববাসির কাছেও সাহায্য চাইছে। খাদ্য বস্ত্র, বাসস্থান উভয় সংকটে আছে গাজাবাসি। এক নিউজে দেখলাম একটু খাবারের জন্য হাজার হাজার গাজাবাসি ভিড জমিয়েছে। সবার হাতে একটা একটা বাটি। রান্না করে হয়েছে খিচুডির মতো ডালভাত একসাথে। আর তা বিলি করছেন উপস্থিত গাজাবাসির কাছে। কিন্তু সবার ভাগ্যে খাবার জুটলো না। কারণ মানুষ বেশি, খাবার কম। শিশু বাচ্চাদের খাবারের জন্য সে কী করুণ আর্তনাদ। সহ্য করার মতো দৃশ্য নয়। আমরা কতো ভালো ভালো খাবার খাচ্ছি। অথচ তারা উপোষ, একটু খাবারের জন্য সে কী আর্তনাদ। আর এক দৃশ্যে দেখলাম ইফতারি করছে ঘাস দিয়ে,সবার সামনে পেয়ালায় ঘাস,আযানের অপেক্ষায় বসে আছে বালুময় প্রান্তরে। আযান দিলে এই ঘাস দিয়ে ইফতার করবে। বোমা মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে হাসপাতাল। মারা গেছে চিকিৎসক সহ হাজার হাজার রোগী। হাসপাতালে নেই চিকিৎসক, নেই নার্স, নেই ঔষধ। বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। গর্ভবতী মা গর্তে আটকা পড়ে প্রসব ব্যথায় কাতরাচ্ছে। পরিবারের সবাই মারা গেছে।একমাত্র শিশু বাচ্চা পাশে বসে কাঁদছে। দেখার মতো কেউ নেই। সে কী করুণ দৃশ্য। অনেক পরিবারের মা বাবা ভাই বোন সবাই মরে গেছে। বেঁচে আছে একমাত্র শিশু বাচ্চা।রক্তাত্ব অবস্থায় কাঁদছে মা বাবার জন্য। সে কী করুণ দৃশ্য।মা তার পাঁচ সন্তানকে হারিয়ে কাঁদছেন। চিকিৎসক মা ছুটে গেছেন চিকিৎসা করতে, দেখেন নিজের মেয়ের লাশ। দেখে সহ্য করতে পারলেন না, মুর্ছিত হয়ে পড়লেন। এক দৃশ্য দেখলাম আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারছে সংবাদিককে। এ কোন বর্বরতা,এ কোন নিঃসংশয়তা…। কোথায় গেল মানবধিকার সংস্থাগুলো।জাতিসংঘ চুপসে আছে কেন?এখন কী মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে না? পুরো রমজান মাস শেষে সারা বিশ্বের মুসলিম ঈদ আনন্দ করছে। কিন্তু গাজাবাসির জীবন কেটেছে রক্তস্নাত স্রোতের মধ্য দিয়ে। পুরো গাজা রক্তের বন্যা,লাশ আর লাশ…। লাশগুলো রক্তাক্ত,কারো মাথা থেথলে গেছে, কারো পা ভেঙ্গে গেছে,কারো হাত ভেঙে গেছে,কারো কোমর ভেঙে গেছে,কারো পুরো শরীর থেথলে গেছে। ঈদের নামাজ পড়েছে তারা বালুময় মরু প্রান্তরে। গাজার বর্তমান অবস্থা খুবই ভয়াবহ। খাদ্য, পানি, বস্ত্র,চিকিৎসা,ঔষধ বাসস্থান উভয় সংকট।না খেয়ে আছে হাজার হাজার গাজাবাসি। অর্ধাহারে অনাহারে মারা যাচ্ছে প্রতিদিন হাজার হাজার শিশু। এভাবে চলতে থাকলে গাজাবাসি একদিন চিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। দখল করবে ইসরাইলিরা খাজা ভুখন্ড। এই মুহূর্তে দরকার সারাবিশ্বের মুসলিমদের গাজাপাশির পাশে দাঁড়ানো।কারণ আলআকসা মসজিদ রক্ষা করা গোটা মুসলিমের ঈমানি দায়িত্ব। শুধু গাজাবাসির নয়। যে যেভাবে পারেন তাদেরকে সাহায্য করেন, টাকা, অন্ন, বস্ত্র, খাদ্য, পানি, ঔষধ, পথ্য, সৈন্য দিয়ে।তা না হলে আল্লাহর কাছে এর জবাব দিতে হবে।কেন মুসলিম হয়ে মুসলিমের পাশে দাঁড়ালেন না? আল আকসা মসজিদ রক্ষা করতে গেলেন না?এই দায়িত্ব আপনার আমার সবার।

তবুও চুপসে আছেন কেন? কোনো মুসলিম রক্ষা পাবে না। গাজাবাসির অভিশাপে সবাই ধ্বংস হয়ে যাবেন। শুধু তাই নয় ইহুদীরা এক এক করে পুরো মুসলিম জাতিকে ধ্বংস করবে। এটাই তাদের প্ল্যান। প্রথমে আল আকসা মসজিদ। পরে বাকীটা। তাই বলছি প্রত্যেক মুসলিমের উচিৎ, সময় থাকতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, আন্দোলনের ডাক দেয়া, যুদ্ধ ঘোষণা করা। তবে আল্লাহপাক জয়ী করবেন। এর ব্যতিরেকে নয়।